Thursday, June 9, 2016


সার্থক জনম

        মানুষের জীবন শৈলী তার পারিপার্শ্বিক প্রতিবেশের অনুকরণ অনুসরণের মাধ্যমেই একটা সময় পর্যন্ত আটকে ছিলো।  প্রযুক্তির উন্নতি কেবল নয় , সহজ লভ্যতা সর্বজন লভ্যতাই  এখন অনুকরণ , অনুসরণ অভিমুখীকরণ অন্য মাত্রায় পৌঁছেছে। প্রত্যেক মানুষই  যুক্তিবাদী। অনুসরণ অনুকরণ এর মধ্যে মানুষের যুক্তি বোধ কাজকরে।আর যখনই মানুষের- আরও  উন্নত যুক্তির সন্ধান মেলে তখন তার সমগ্র মনন আন্দোলিত হয়; ভাবের পরিবর্তন হয়। সেই মুহুর্তে যদি সে  আত্মগোপন করে তবে সে ক্রাইম কে প্রশয় দিলো, আর যুক্তিকে গ্রহণ করলে সে মুক্তি পেলো।
        বদ্ধ সমাজ আজ আর নেই। ট্রান্সপারেন্সির বেগ মারাত্মক হলেও তা যে ভীষণ ভাবে  প্রাতিষ্ঠানিকতা দোষে দুষ্ট। ট্রান্সপারেন্সির যুগের গতিশীল প্রজ্ঞা সবটাই মিডিয়া নিয়ন্ত্রিত। কালেকটিভ ভয়েস বলতে আমরা মিডিয়াকে বুঝি। মিডিয়া দারুণ ভাবে কখন কোন ভয়েস কে নিস্প্রভ করতে হবে ,কখন কোনটাকে বিবর্ধিত করতে হবে সে বিষয়ে দক্ষ। আর এই সমান্তরাল প্রজ্ঞার মাধ্যমে মিডিয়া ট্রেন্ডস তৈরী করে। ট্রেন্ডস এর আলোক এত উজ্জল ,এত তীব্র, এত মর্মভেদী যে, এই  আলোকে এক রাষ্ট্র আর এক রাষ্ট্রের ল্যান্ড অকুইজিশন অনায়াসেই করতে পারে।পরিকল্পিত genocide ঘটাতে পারে।  ট্রেন্ডস ক্রাইম এর পক্ষে কাজ করে, ত্রাতার তকমা ফেরি করে। আবার এই ট্রেন্ডস এর দাপটে রাষ্ট্র তার অভ্যন্তরে তার অন্নে পালিত মানুষের কল্যানে ল্যান্ড অকুইজিশন করতে পারেনা ক্ষেত্রে মিডিয়া আয়োজিত ট্রেন্ডস গুলোর একটা অভিমুখ আছে। আর এই অভিমুখ বিন্দুগুলোর একেবারে শীর্ষে রাজ করে ক্ষমতা , স্বার্থ , শোষণ। তর্কের খাতিরে কিছুটা মেনে- মানিয়ে নিলেও; রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ট্রেন্ডস এর  নিলর্জ্জ  নিয়ন্ত্রণ তো রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব কেই চ্যালেঞ্জ করে। তাই নয় কি ?
         দস্যু রত্নাকর তার প্রতিবেশ সমাজ থেকে যে জ্ঞান লাভ করেছিলো  তা হলো অন্যের ধন কেড়ে নাও ,আর শ্রম হিসেবে তাকে বধ করো। তখনকার সময়ে সে সিন্ধু থেকে এই বিন্দু পরিমান জ্ঞান টা তুলে নিয়েছিলো। এই জ্ঞানে কোনো বোধ ছিলো কি ? বোধ হলো কি ভাবে ?
কয়েকটা  প্রশ্নের মাধ্যমে "তুমি যে এই কাজটি করছো এটাই কি মানুষের বেঁচে থাকবার একমাত্র অনিবার্য উপায় ? তোমার এই এলাকার সকলে তোমার পরিবার  এই ভাবে  জীবন ধারণ করলেও আর অনেক জায়গা আছে যেখানে মানুষ  উত্পাদন করেন , রুপান্তর করেন , গঠন করেন, নির্মান করেন , চালনা করেন ইত্যাদি বহুপ্রকারের শ্রমজীবী মানুষ আছেন ; তা কি জানা আছে ? এত  গুলো কর্মের মধ্যে কোথাও কি অন্যের ক্ষতি পেলে ?” অন্যের ক্ষতি না করে যে কর্ম, সেই কর্মই সঠিক| এই একটি বোধ মানুষের জীবন পাল্টে দিতে পারে।  হলোও তাই ,দস্যু রত্নাকর এর ঘর বাপসী হলো।সিন্ধুর প্রলোভনে উদ্ভ্রান্ত না হয়ে বিন্দুর বোধ দ্বারা সব কিছু পরখ করে নিতে শিখলো। সেদিন তার ঘর বাপসী হয়েছিলো। প্রত্যেক মানুষ কে ভাবেই সিন্ধু সবসময় প্রলোভিত করে চলেছে। এখনকার প্রিন্ট মিডিয়া , ইলেকট্রনিক অডিও ভিডিও , ইন্টারনেট প্রচুর তথ্য প্রলোভনও বেশি। প্রলোভিত মানুষ যেন সিন্ধুর মধ্যে হাবু ডুবু খাচ্ছে। মানুষ প্রতি মুহুর্তে বিন্দু গামী হয়ে  সিন্ধুর প্রলোভন থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে চলেছে।সিন্ধুর মোহজাল আবার প্রাতিষ্ঠানিক মিডিয়া, পক্ষে কাজ করলেও বিন্দুর বোধ কোনো না কোনো ভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। ফলে সিন্ধু আরোপিত লোকসংস্কৃতি প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে নিস্প্রভ হচ্ছে |
    মানুষ বিন্দু গামী হবেন, মানুষের ঘর বাপসী হবে।  প্রতি মুহুর্তের এই যে ঘর বাপসী এখানেই মানুষের বেঁচে থাকার সার্থকতা। আমাদের জীবনের এই সমস্ত অজস্র বিন্দুর যে বিন্দু টি প্রতিনিধিত্ব করে তাকে জানলেই প্রকৃত অর্থেই আমদের ঘর বাপসী হয়। জনম সার্থক হয়।



নাসরুজ্জামান

14/04/16

No comments:

Post a Comment